মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ইউডিসি

ইউডিসি কী ও কেন?

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর একটি অত্যাধুনিক তথ্য ও জ্ঞানকেন্দ্র(টেলিসেন্টার) যার উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা নিশ্চিত করা। এ কেন্দ্র থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ খুব সহজেই তাদের বাড়ীর কাছে পরিচিত পরিবেশে জীবন ও জীবিকাভিত্তিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা পায়।

গত ১১ নভেম্বর ২০১০ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র প্রশাসক ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিস হেলেন ক্লার্ক ভোলা জেলার চর কুকরিমুকরি ইউনিয়ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের সকল ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) একযোগে উদ্বোধন করেন। এ সকল কেন্দ্র থেকে মাসে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ তথ্য ও সেবা গ্রহণ করছে। ইউডিসির মাধ্যমে সহজে, দ্রুত ও কম খরচে সরকারি ও বেসরকারি সেবা পাবার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমানের ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

‘জনগণের দোড়গোড়ায় সেবা’ (Service at Doorsteps)-এ ম্লোগানকে সামনে রেখে ইউডিসির যাত্রা শুরু হয়। ইউডিসি প্রতিষ্ঠার ফলে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি অবাধ তথ্য প্রবাহ সৃষ্টি করা সম্ভবপরহয়েছে, যেখানে মানুষকে আরসেবার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে না, বরং সেবাই পৌঁছে যাচ্ছেমানুষেরদোরগোড়ায়। অবাধ তথ্য প্রবাহ জনগনের ক্ষমতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। দেশের ৪,৫০১টি ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের ফলে গ্রামীণ জনগণের অবাধ তথ্য প্রবাহে অংশগ্রহণসহ দ্রুততম সময়ে তথ্য ও সেবা পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে।

উপকরণ:

এলাকার সর্বসাধারণের জন্য উন্নত তথ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ইউডিসিতে একাধিক কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। ইউডিসির প্রয়োজনীয় উপকরণ আসে উদ্যোক্তার বিনিয়োগ এবং ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল (রাজস্ব খাত ও এলজিএসপি প্রকল্প) থেকে। নূন্যতম স্ট্যাবিলাইজারসহ একটি কম্পিউটার, একটি সাদাকালো প্রিন্টার, একটি কালার প্রিন্টার, অন-লাইন সংযোগ স্থাপনের  জন্য একটি মডেম, একটি স্ক্যানার, একটি ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে একটি ইউডিসি-এর কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে শুরু করা সম্ভব। তবে পূর্ণাঙ্গ ইউডিসি পরিচালনার জন্য নিম্ন লিখিত উপকরণ দরকার -

  • একাধিক কম্পিউটার (ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ)
  • বড় স্ক্রিনসহ ১টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর
  • ১টি লেজার প্রিন্টার
  • ১টি কালার প্রিন্টার 
  • ১টি মডেম
  • ১টি স্ক্যানার মেশিন
  • ১টি লেমিনেটিং মেশিন
  • ১টি ফটোকপি মেশিন
  • ১টি ডিজিটাল ক্যামেরা
  • ১টি ওয়েবক্যাম
  • ১টি জেনারেটর  

স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে কোন ইউডিসিতে উপরকরণ এর চেয়ে কম বা বেশি থাকতে পারে।

ইউনিয়ন ডিজিটাল স্থাপিত হয়েছে পিপিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট-পিপলস পার্টনারশীপ) মডেলের উপর ভিত্তি করে। প্রতিটি ইউডিসিতে দু’জন করে স্থানীয় তরুন উদ্যোক্তা রয়েছে, যাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী। এ উদ্যোক্তারাই ইউডিসি পরিচালনা করে থাকেন। কিছু কিছু কেন্দ্রে একজন নারী ও একজন পুরুষ উদ্যোক্তার পাশাপাশি আরো একজন করে নারী ও পুরুষ ‘বিকল্প উদ্যোক্তা’ হিসেবে কাজ করছে।উদ্যোক্তা ইউডিসি’র বেতনভুক্ত কর্মী নন, প্রতিটি ইউডিসি’র আয়-ই উদ্যোক্তার আয়। ইউডিসি’তে উদ্যোক্তা একজন বিনিয়োগকারীও বটে।

পার্টনারশীপ বা অংশীদারিত্ব:

স্থানীয় সরকার বিভাগের নেতৃত্বে ইউডিসিসমূহ পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ইউডিসি’র তদারকিসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইউডিসি’র প্রয়োজনীয় আইসিটি উপকরন ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের অর্থ আসে এলজিডি ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) থেকে। এছাড়াও বিসিসি ১০১৩টি বিদ্যুতবিহীন ইউনিয়নে সোলার প্যাণেল সরবরাহ করে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদকে বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে এসেছে। এর বাইরে একাধিক ব্যাংক-বীমা, মোবাইল কোম্পানী, এনজিও, শিক্ষা-গবেষনা প্রতিষ্ঠান, হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার সমিতি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা, নতুন দক্ষতা ও কারিগরী সহায়তা নিয়ে ইউডিসি’র সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে।

ইউএএমএস  বা ইউডিসি এ্যাকটিভিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম:

ইউডিসি উদ্যোক্তাদের আয়ের হিসাব এবং স্থানীয় প্রশাসনের ফলো-আপে সহযোগিতা করার জন্য ইউডিসি কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা বা ‘ইউএএমএস’ (http://www.e-service.gov.bd/uams/) নামে একটি অনলাইন সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। ইউডিসি উদ্যোক্তারা তাদের প্রতিদিনকার আয়ের তথ্য এখানে আপলোড করে থাকেন।

ব্লগ (uiscbd.ning.com):

উদ্যোক্তাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, আন্ত:সম্পর্ক স্থাপন এবং উদ্যোক্তাদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরসা থে দ্রুত যোগাযোগের জন্য তৈরি করা হয়েছে ইউডিসি ব্লগ (uiscbd.ning.com)। ব্লগটি সারাদেশে বিস্তৃত ৪,৫০১ টি ইউডিসি’র ৯,০০২ জন উদ্যোক্তার জন্য এমনই একটি শক্তিশালী অনলাইন প্লাটফরম, যেখানে উদ্যোক্তারা নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করার, সমস্যা চিহ্ণিত ও তার সমাধান খোঁজার, সমবেত ভাবে উদ্যোগ গ্রহণের, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার, এমনকি প্রয়োজনে নীতিনির্ধারকদের সাথে আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে।

 

 

 

 

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার

Language Bengali

ইউনিয়নপরিষদ দেশের প্রাচীনতম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। এটি তৃনমুল পর্যায়েজনগণের সবচেয়ে কাছের সরকার। ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিককেন্দ্র 'ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার' পরিষদকে নতুন মাত্রা প্রদান করেছে। ২০১০সালের ১১ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয় থেকে এবংনিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র প্রশাসক মিস হেলেন ক্লার্ক ভোলা জেলার চর কুকরিমুকরি ইউনিয়নথেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদে একটিকরে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) একযোগে উদ্বোধন করেন। ইউডিসি’র মূললক্ষ্য হল, ইউনিয়ন পরিষদকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা, যাতে এইসব প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের মধ্যে একটি তথ্য ও জ্ঞান-ভিত্তিক দেশ প্রতিষ্ঠায়যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এই সব কেন্দ্র সরকারি-বেসরকারি তথ্য ওসেবাসমূহ জনগনের কাছাকাছি নিয়ে যেতে, প্রযুক্তি বিভেদ দূর করতে ও সকলনাগরিককে তথ্য প্রবাহের আধুনিক ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে সুদুর প্রসারীভূমিকা রাখতে পারে ।

‘জনগণের দোড়গোড়ায় সেবা’ (Service at Doorsteps)-এম্লোগানকে সামনে রেখে ইউডিসির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ইউডিসি প্রতিষ্ঠার ফলেসমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি অবাধ তথ্য প্রবাহ সৃষ্টিকরা সম্ভবপর হয়েছে, যেখানে মানুষকে আর সেবার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতেহচ্ছে না, বরং সেবাই পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের দোরগোড়ায়। অবাধ তথ্য প্রবাহজনগনের ক্ষমতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের ফলে সাধারননাগরিকগণ এখন সহজে, কম খরচে ও ঝামেলাহীনভাবে প্রায় ৬০ ধরনেরসরকারি-বেসরকারি সেবা ইউডিসি থেকে পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্তপ্রায় সাড়ে ১১ কোটি সেবা প্রদান করা হয়েছে, এবং সেবা প্রদান করে ইউআইএসসিউদ্যোক্তারা মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা আয় করছেন।

ইউডিসি'র উল্লেখযোগ্য সরকারি সেবাসমূহ হলো: জমির পর্চা, জীবন বীমা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারি ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রভৃতি। বেসরকারি সেবাসমূহ হলো: মোবাইল ব্যাংকিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেইল, চাকুরির তথ্য, কম্পোজ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজী শিক্ষা, ভিসা আবেদন ও ট্র্যাকিং, ভিডিওতে কনফারেন্সিং, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ফটোকপি, লেমিনেটিং প্রভৃতি।

কিছু উল্লেখযোগ্য সেবার চিত্র নিম্নরূপ:

  • কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান ইউআইএসসি’র একটিঅন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবা। একটি প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যেএ উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ন। বর্তমানে ৩,৭৭৩টি ই্উডিসি মাল্টিমিডিয়াপ্রজেক্টর ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।২০১০ সালের নভেম্বর থেকে মার্চ ২০১৪ পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার ছাত্র-যুবকইউডিসি থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
  • গ্রামের মানুষের কাছে বীমা সুবিধা পৌঁছানোরলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় বীমা প্রতিষ্ঠান, জীবন বীমা কর্পোরেশন দেশের ২,৭৬৮টিইউডিসি’তে জীবন বীমা সেবা চালু করেছে। এ পর্যন্ত মোট ৩৬ হাজার নাগরিকসেবা গ্রহণ করেছেন।
  • ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত তৃণমুল মানুষের কাছেব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ৪টি ব্যাংক (ডাচ বাংলা, ট্রাস্ট, ওয়ানব্যাংক ও বিকাশ) দেশের ২৩৬৩টি ইউআইএসসি’তে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমচলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার নাগরিক সেবা গ্রহণ করেছেন।
  • জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশপল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এ পর্যন্ত ৭২৭টি ইউডিসি'র মাধ্যমে পল্লীবিদ্যুতের বিল প্রদানের ব্যবস্থা করেছে।
  • গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্য সুবিধা বঞ্চিত মানুষেরদোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরসহায়তায় বর্তমানে ৩০টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে টেলিমেডিসিন চালু করাহয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০০টিরও বেশি ইউডিসি’তে স্বাস্থ্য ক্যাম্প চালু রয়েছে।
     

 

একজন দরিদ্রকৃষক ইউডিসি থেকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়ার মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায়িত হচ্ছে; এতে তার কৃষি উৎপাদন এবং উপার্জন-দুটোই বাড়ছে। একজন সাধারণ নাগরিক উপজেলাবা জেলা অফিসে না গিয়েও জমির পর্চার নকলের জন্য আবেদন করতে পারছেন, যা তারসময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় ঘটাচ্ছে। একজন গ্রামের শিক্ষার্থী তার নিজগ্রামে বসেই এসএমএস’র মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য আবেদন করতেপারছেন। একজন অভিবাসী শ্রমিক ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ইংরেজী শিখতেপারছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেও একজন সাধারন মানুষ ভিডিও কনফারেন্স’রমাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ক্ষতিগ্রস্থমানুষ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্থানীয় দূর্যোগ পূর্বাভাস জানতেপারছেন। এভাবে ইউডিসি গ্রামীন মানুষকে বিভিন্ন সরকারি তথ্য প্রদানেরমাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘কার্যকর ও জনগনের প্রতিষ্ঠান’-এ পরিণত করেছে।

আর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকার্যকর করে তুলেছেনই্উডিসি উদ্যোক্তা। প্রতিটি কেন্দ্রে দু'জন করে উদ্যোক্তা কাজ করেন; একজন ছেলে ও একজন মেয়ে। একজন নারী উদ্যোক্তা থাকার ফলে কেন্দ্রে নারীদেরসহজে প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্যোক্তা একজন বিনিয়োগকারী, চাকুরীজীবি নয় এবং জনগণকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত আয় থেকেইউদ্যোক্তা তার জীবিকা নির্বাহ করেন। অর্থাৎ ৪,৫৪৭টি কেন্দ্রে মোট ৯,০৯৪জন তরুন আইসিটি উদ্যোক্তার আত্ম-কর্মসংস্থান হয়েছে। যেহেতু তথ্য ওসেবাকেন্দ্র পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ মডেলে পরিচালিত, সেহেতু সরকারেরপাশাপাশি উদ্যোক্তাগণও বিনিয়োগ করেছেন। ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোক্তা চরমপ্রতিকূল অবস্থা অতিক্রম করে ভাল কাজ করছেন, এবং নাগরিকদের বিভিন্ন ধরনেরসরকারি-বেসরকারি ই-সেবা প্রদানের মাধ্যমে মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি আয়করছেন। যশোরের আরবপুর ইউডিসি'র উদ্যোক্তা আরিফ, ঝালকাঠীর পোনাবালিয়াইউডিসি'র উদ্যোক্তা নাদিরা, নওগাঁ'র নিতপুর ইউডিসিসি'র উদ্যোক্তাজোসনা, রংপুরের সদ্যপুস্করনী ই্উডিসি'র উদ্যোক্তা মুন এবং সিরাজগঞ্জেরভাঙ্গাবাড়ি ই্সউডিসি'র উদ্যোক্তা সাদ্দাম তাদের মধ্যে অন্যতম।

 

ইউনিয়ন পরিষদ দেশের প্রাচীনতম স্থানীয়সরকারপ্রতিষ্ঠান, যাকে শক্তিশালী ও কার্যকর সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করারজন্য অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানব্যবস্থার পরিবর্তন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যাপার।এটি রাতারাতি একদিনেই সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে প্রক্রিয়ার মাধ্যমেইপরিবর্তনসমূহ করতে হয়। এক সময়ে মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ খুব বেশি ব্যবহার করতোনা। কেবলমাত্র গ্রাম্য সালিশ-বিচারের কাজে ইউনিয়ন পরিষদ মাঝে-মধ্যেব্যবহৃত হতো। মানু্ষের ধারনাই ছিল, ইউনিয়ন পরিষদ নিয়মিত খোলা হয় না।ইউডিসি এই ধারনাকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে মানুষেরপ্রবেশগম্যতা বেড়েছে। ইউডিসি থেকে প্রতি মাসে ৪০ লক্ষাধিক মানুষ বিভিন্নসরকারি-বেসরকারি ই-সেবা গ্রহন করছেন। ইউনিয়ন পরিষদে ইউডিসিসি স্থাপনের ফলেইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাশক্তিশালী হয়েছে। ইউআইএসসি'র সফল অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে, দেশের ৩১৯টিপৌরসভায় 'পৌর ডিজিটাল সেন্টার (পিডিসি)' ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডপর্যায়ে ৪০৭টি 'নগর ডিজিটাল সেন্টার (সিডিসি)' স্থাপন করা হয়েছে।

ইউডিসি’র কাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত স্থানীয়প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন উপজেলা ই-গভ: ফোকাল পয়েন্ট হিসেবেএবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জেলা ই-গভ: ফোকাল পয়েন্ট হিসেবেতদারকিসহ ইউডিসি টেকসইকরনের কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত। জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয়কমিশনারগণ এ বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।ক্যাবিনেট ডিভিশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ এ কাজের সমন্বয় করে থাকেন। এর ফলেইউনিয়ন পরিষদের প্রতি বর্তমানে মানুষের আস্থা অনেক বেড়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইউডিসি পরিচালনা কমিটিরসভাপতি হিসেবে ইউডিসি’র কার্যক্রমসমূহ মনিটরিং করে থাকেন। আর এ কাজেনিবিড়ভাবে সহযোগীতা করেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব। জেলা তথ্য কর্মকর্তা ইউডিসি’রপ্রচার-প্রচারনায় সম্ভবপর উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন।  ফলে ইউনিয়ন পরিষদসাধারন মানুষ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যদের জন্য একটিপ্রেস্টিজিয়াস প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে।

পৃথিবীর অনেক দেশই পরীক্ষামূলকভাবে টেলিসেন্টার, ওয়ান-স্টপ-সার্ভিস এবং ইনফরমেশন সেন্টার চালু করেছে; কিন্তু এমন কোন দেশেরকথা জানা নেই যারা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে একযোগে উদ্বুদ্ধ করেসারাদেশে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং কেন্দ্রসমূহকে গণমূখী করতে পেরেছে।ইউডিসি স্থাপনের মাধ্যমে জনগনের দোড়গোড়ায় সরকারি-বেসরকারি সেবা পৌঁছানো, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজএকসাথে হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এটি ছিল অচিন্তনীয়, এবং বলতেবাঁধা নেই। এটি বিশ্ব বাস্তবতায়ও অকল্পনীয়।

 

 

 

 

নিচে পিডিএফ ফাইলে বিভিন্ন ক্রয় বিক্রয় করার জন্য ঠিকানা ও ৫৪ টি দেশের ভিসা চেক করার লিঙ্ক দেওয়া হইল।

সবাইকে ডাউনলোড করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো হইল।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter